আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করায় এক সাংবাদিককে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেআদব,ধান্দাবাজ,ভণ্ড, ও ছোটলোক’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন।
সাংবাদিকের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। এমনকি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘তেল-মর্দন’ করে সময় কাটানোর অভিযোগও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
এরপর ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল এবং ‘চরের মানুষ’ নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওই পোস্টে লেখা হয়, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ থাকলেও ‘এ দেশে’ কিছু মানুষ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ মাস ধরে কয়েকজন তার পেছনে লেগে আছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড ‘দুঃসাহসের চরম পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে চরের মানুষের বড় অবদান রয়েছে এবং তিনি নিজেও চরের মানুষ হিসেবে গর্বিত। একইসঙ্গে সাংবাদিক ও চরের মানুষকে নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অশালীন মন্তব্য করেছেন। সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে কোনো সাংবাদিকের তথ্য বা বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তিনি এ ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বাংলাদেশ সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা কর্তব্য বলে উল্লেখ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাগরিকদের সঙ্গে ভদ্র, শিষ্টাচারপূর্ণ ও মার্জিত আচরণ করার বিষয়েও সরকারি চাকরির বিধিবিধানে নির্দেশনা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইলের জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স