ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA
ADVERTISEMENT AREA

টাঙ্গাইলে কালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 2, 2026 ইং
টাঙ্গাইলের পাটিশিল্প ছবির ক্যাপশন: টাঙ্গাইলের পাটিশিল্প
ADVERTISEMENT AREA
কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে টাঙ্গাইল জেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প। একসময় জেলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বেতের তৈরি শীতল পাটি। গ্রামীণ জনপদের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বিয়ে-শাদি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা গরম দুপুরের শীতল আরামে পাটির ছিল ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের আগ্রাসনে এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।

এক সময় টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, বাসাইল, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সখীপুর, ধনবাড়ী, মধুপুর ও টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে পাটি শিল্প ছিল একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কুটির শিল্প। বিশেষ করে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া, সিলিমপুর, খিলদা, ধুনাইল, এলেঙ্গা, লাঙ্গলজোড়া, ঘূনি, সালেংকা, পাটিতাপাড়া, পিচুটিয়া, আউলটিয়া ও মহিষজোড়াসহ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ছিল পাটি শিল্পের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক ও কারিগর। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল বেতের ক্ষেত। সেই বেত সংগ্রহ করে তৈরি হতো শীতল পাটি, বুকা পাটি, ছাইলা ও আতি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পণ্য পৌঁছে যেত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে পাটির চাহিদা। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি পাটি ও আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী বেতের পাটির বাজার প্রায় হারিয়ে গেছে। ফলে পাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত অসংখ্য পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে পেশা বদল করেছেন, আবার অনেক পরিবার জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতে।

উপজেলা পাটি শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরে কৃষ্ণ পাল বলেন, একসময় এই শিল্পে দুই লক্ষের বেশি মানুষ কাজ করতো। এখন বাজার সংকুচিত হয়ে গেছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সিলিমপুর গ্রামের পাটি কারিগর কালা চাঁদ বাবু বলেন, “সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা টিকে থাকতে পারবো। এখন খুব কষ্টে দিন পার করছি।”

পিচুটিয়া গ্রামের কারিগর সুশান্ত চন্দ্র ধর বলেন, এই পাটির কাজ ছাড়া আর কিছু শিখিনি। এটা করেই সংসার চলে। সরকার পাশে না দাঁড়ালে এ শিল্প একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ। তা না হলে অচিরেই টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প শুধুই ইতিহাস আর স্মৃতির পাতায় স্থান পাবে।
ADVERTISEMENT AREA

নিউজটি আপডেট করেছেন : Shuvro Mujumder

কমেন্ট বক্স
ঠিক কত পদে ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতিকে আপ্যায়ন করা হবে, তা কেউ প্রকাশ করেনি। তবে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নৈশভোজে তিনটি পর্ব থাকবে। হালকা মুখরোচক পদ আর পানীয় দিয়ে শুরু হবে খাবার পর্ব। এরপর পরিবেশন করা হবে মূল খাবার। শেষে থাকছে মিষ্টান্ন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আজ মঙ্গলবার নৈশভোজের আয়োজন করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ প্রায় ১০০ অতিথি উপস্থিত থাকবেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে আপ্যায়ন করতে আয়োজনের কোনো কমতি নেই রাষ্ট্রপতি ভবনের রান্নাঘরে।