আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño) গঠনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়া ঘটনাটি মিলিত হলে বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভয়াবহ দাবানল এবং কিছু অঞ্চলে অস্বাভাবিক বন্যার মতো চরম দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
সুপার এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেলে তাকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। এর সঙ্গে সুপার এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে তীব্র খরা ও অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটতে পারে। দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে খাদ্য সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাব্য পরিস্থিতি,
যদিও বাংলাদেশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত নয়, তবুও এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে গ্রীষ্মকাল আরও দীর্ঘ ও উষ্ণ হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহ এবং খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে। কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে ধান চাষ, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কবার্তা, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও জলবায়ু গবেষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, পানি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার এল নিনো যদি প্রত্যাশিত মাত্রায় শক্তিশালী হয়, তবে ২০২৬ সাল বিশ্বের জন্য আবহাওয়া ও জলবায়ুর দিক থেকে অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বছর হয়ে উঠতে পারে।
ADVERTISEMENT AREA
Md Samir Hosen