ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমন্বিত সামরিক অভিযানের ১০০ দিন পার হওয়ার পর জোটটির ভেতরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ অভিযান সম্পর্কে আগাম পূর্ণাঙ্গ তথ্য ওয়াশিংটনকে জানানো হয়নি।
এর আগে ইরান সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। পরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হতে হয়।
এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও জটিল না করার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি এড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই তিনি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের শুরুতে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রভাব কমানো এবং তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি অন্যতম ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে আলোচনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।এই সংস্করণটি সরাসরি কপি নয়; ভাষা, বাক্যগঠন ও উপস্থাপনা নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যা নিউজ ওয়য়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
ADVERTISEMENT AREA
Md Samir Hosen