প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং
ভূরুঙ্গামারীতে গুদাম থেকে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে গেলেন কৃষকরা

রিমন সিদ্দিকী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট ও সরবরাহ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা এলাকার মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার কিনতে তারা কয়েক দফা ডিলারের কাছে গেলেও প্রত্যাশিতভাবে সার পাননি। রোববার সকালেও অনেক কৃষক সার নিতে সেখানে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তারা গুদামের দরজা ভেঙে সার বের করে নিয়ে যান।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য ওই ডিলারের নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমে ডিলার ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, উপজেলায় সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে তারা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের অনুরোধের পর ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি ১৬৪ বস্তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথও জানিয়েছেন, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন কৃষকের দাবি, ডিলারের কাছে সার না পেলেও খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছিল। এ অভিযোগের বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ