প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 28, 2026 ইং
যশোরে মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে আনোয়ারা বেগম (৫৮) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে মামুনুর রশিদ মামুনের (৪৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মামুন পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিরোধের মধ্যে ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি মানসিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মামুন এর আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন। দাম্পত্য কলহের কারণে উভয় সংসারই ভেঙে যায়। স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তিনি তার মা আনোয়ারা বেগমকে দায়ী করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে অতীতেও একাধিকবার বিরোধ ও মারামারি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রায় পাঁচ বছর বাড়ির বাইরে থাকার পর বৃহস্পতিবার মামুন বাড়িতে ফেরেন। বিকেলে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মামুন রান্নার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার শব্দ ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।
নিহত আনোয়ারা বেগমের ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন বাজে দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ