
ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই আকাশপথে ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে।
রাজধানী জাকার্তার প্রধান সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। বিমানবন্দরটির পাশাপাশি বান্দুং ও ল্যাম্পুং অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতেও আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ছাই জাভা ও সুমাত্রার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় ছাইয়ের মেঘ প্রায় ১৫ হাজার মিটার (৫০ হাজার ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়। এ ধরনের আগ্নেয় ছাই বিমানের ইঞ্জিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছাইয়ের প্রভাব মোকাবিলায় জাকার্তায় সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ছাই থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোনো সুনামির তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। আগ্নেয়গিরির আশপাশে তিন কিলোমিটার এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আনাক ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্র থেকে গড়ে ওঠা আগ্নেয় দ্বীপ। ২০১৮ সালে এর অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে যুক্ত সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নিউজ সূত্র: Reuters, Associated Press (AP), Al Jazeera এবং ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য।