প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2026 ইং
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, ছাইয়ে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতাউয়ে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আগ্নেয় ছাই। প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে চলা টানা অগ্ন্যুৎপাতের কারণে একপর্যায়ে দেশটির আটটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিতে হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং হাজার হাজার ফ্লাইটের সূচি বিঘ্নিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা PVMBG জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৭ মিনিটে আনাক ক্রাকাতাউয়ে টানা অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর এই দীর্ঘস্থায়ী অগ্ন্যুৎপাতের পর্ব শেষ হলেও আগ্নেয়গিরিটিতে ছোট ছোট বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে। আগ্নেয়গিরিটির ভূকম্পনও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ছাইয়ের মেঘ আকাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছাইয়ের প্রভাবে জাকার্তাসহ জাভা ও সুমাত্রার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থাও করা হয়।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া আটটি বিমানবন্দরের মধ্যে জাকার্তার প্রধান সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ছিল। পরে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ছাই সরে যাওয়ায় বিমানবন্দরগুলো ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা সব বিমানবন্দর পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে Reuters। তবে নিরাপত্তার জন্য ছাইয়ে আক্রান্ত উড়োজাহাজগুলো পরীক্ষা করে তারপর স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অগ্ন্যুৎপাতের পরও আনাক ক্রাকাতাউ পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ৮ সেপ্টেম্বরও আগ্নেয়গিরিটিতে একাধিক ছোট বিস্ফোরণ রেকর্ড করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটির চারপাশে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর লেভেল-৩-এ রয়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউ ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে এ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ফলে বর্তমান অগ্ন্যুৎপাত ঘিরে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
সূত্র: ইন্দোনেশিয়ার Badan Geologi/PVMBG, Reuters ও Associated Press।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ