প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 28, 2026 ইং
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেক্স:-
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া রোহিঙ্গা বিষয়ক বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।
আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা জরুরি। এ সংকট শুধু বাংলাদেশের একার বিষয় নয়; এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন সংকট তৈরি হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আগের তুলনায় মনোযোগ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। প্রায় নয় বছর ধরে ক্যাম্পে থাকা শিশুদের একটি বড় অংশ সেখানেই বেড়ে উঠছে। প্রতিবছর শিবিরগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে সময়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আরও বাড়ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
তার মতে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে। তাই এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারকেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমেই খুঁজে বের করতে হবে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও তাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের বিষয়ে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার একটি কার্যকর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা দরকার। এতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে এমন রাষ্ট্র এবং অর্থায়নে সক্ষম দেশগুলোকেও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মিয়ানমার তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনকে নিরাপদ ও টেকসই করতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে আইরিন খান বলেন, এককভাবে জাতিসংঘের পক্ষে এত বড় সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করা জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ