
স্টকহোম, ৭ অক্টোবর: ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন বেলজিয়াম-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন। মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ প্রকল্পে নেতৃত্ব এবং উচ্চ-শক্তির জ্যোতির্পদার্থবৈজ্ঞানিক নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
নিউট্রিনোকে বিজ্ঞানীরা প্রায়ই ‘ঘোস্ট পার্টিকেল’ বা ‘ভূতুড়ে কণা’ বলে অভিহিত করেন, কারণ এগুলো পদার্থের সঙ্গে খুব সামান্য মিথস্ক্রিয়া করে এবং প্রায় বাধাহীনভাবে মহাকাশ পাড়ি দিতে পারে। হ্যালজেনের নেতৃত্বে অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে নির্মিত আইসকিউব অবজারভেটরি এই দুর্লভ কণাগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, হ্যালজেনের গবেষণা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তার কাজের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সুপারনোভা, ব্ল্যাক হোল এবং অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনার উৎস সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা লাভ করছেন।
বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ফ্রান্সিস হ্যালজেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের অধ্যাপক। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রথম অ্যান্টার্কটিকার বরফকে বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহারের ধারণা দেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকল্পে পরিণত হয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, হ্যালজেনের এই অর্জন ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উদঘাটনে নতুন পথ তৈরি করবে এবং নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে।