প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং
কর্ণফুলী নদীতে বস্তাবন্দি নারীর মরদেহ, হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামে এক নারীকে বেড়ানোর কথা বলে নৌকায় তুলে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটির দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
বিস্তারিত: বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রো পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) চট্টগ্রাম নগরের একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে তাঁর আগের বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি পিবিআইয়ের।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই একটি স্যাম্পান নৌকা নিয়ে কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে নৌকায় তুলে কর্ণফুলী ব্রিজের নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, ওই দিন রাত ৮টার দিকে নৌকায় জান্নাতুলের সঙ্গে রাজা মিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে রাজা মিয়া ও আরমান নামের এক ব্যক্তি তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে। এরপর মরদেহের হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার চার দিন পর, ২ আগস্ট, কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা ছায়রা খাতুন রাজা মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গত ৬ অক্টোবর সদরঘাট নৌ পুলিশের কাছ থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মো. মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহমদ নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংস্থাটির ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্যাম্পান নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
পিবিআই আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ