প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং
কক্সবাজার সৈকতে ৪০০ প্রতিমা বিসর্জন, পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার সংবাদদাতা :
শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে লাবণী পয়েন্টে শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রায় ৪০০ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি দুর্গাপূজা ও টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা।
আয়োজকদের ধারণা, প্রতিমা বিসর্জন দেখতে সৈকতে তিন থেকে চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে পূজার্থীরা প্রতিমা নিয়ে আসেন। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও ভক্তদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ফুটে ওঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র।
এদিকে দুর্গাপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজগুলোতে বাড়ছে অতিথিদের চাপ। হোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, তারকা মানের ২০টির বেশি হোটেলে প্রায় সব কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি মানের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে আগাম বুকিংয়ের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির সময়ে পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরের প্রত্যাশা, ১০ দিনের ছুটিতে অন্তত ১৫ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্যটন খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, পর্যটকদের হয়রানি ঠেকানো এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা সূত্রে জানা যায়, এবার কক্সবাজারে ৩২৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ দিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের দুর্গোৎসব। বিদায়বেলায় ভক্তদের প্রার্থনা অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আগামী বছর আবারও ধরাধামে ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশ বাংলা টিভি নিউজ