
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াছ এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় ধর্ষণের মূল অপরাধে সখীপুর পৌরসভার ছোট চওনা এলাকার মো. শহীদ এবং অপরাধে সহায়তার দায়ে তেলধারা গ্রামের অজুফা বেগমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, একই আইনের ৭ ধারায় অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকায় বড় চওনা এলাকার মো. ইসমাইল ও কচুয়া গ্রামের মো. আ. রহমানকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সাজাপ্রাপ্ত চারজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে তাদের অতিরিক্ত ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদায় করা জরিমানার এই অর্থ ভুক্তভোগী তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বিচার চলাকালে আসামি মো. বাবুল মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওমারাও খান দিপু জানান, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে ভুক্তভোগী তরুণী সখীপুরের কীর্তনখোলায় নিজ মায়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন। পরবর্তীতে তাঁকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী উদ্ধার হওয়ার পর সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবুল আকতার আদালতে চার্জশিট জমা দেন এবং ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আদালত ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট, সুরতহাল এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন।