ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

গ্যাস সংকটে অসহায়ত্বের কথা জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী, দিন গোনা ছাড়া উপায় নেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 14, 2026 ইং
গ্যাস সংকটে অসহায়ত্বের কথা জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: গ্যাস সংকটে অসহায়ত্বের কথা জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
শাহ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। 

তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো তাৎক্ষণিক সমাধানের সুযোগ নেই; এলএনজি টার্মিনাল সচল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই মূল কাজ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং ও গ্যাসের ব্যবহার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন করে দ্রুত গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর সুযোগ নেই। একইভাবে এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজি খালাস করে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টার্মিনালের প্রকৌশলীরা কাজ শেষ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এখন মূলত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা এবং এর পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকটের চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শিল্প খাতে যতটা সম্ভব গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মেরামতের কাজে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা যুক্ত রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার চালু করতে কারিগরি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। এ সময় পুরো সিস্টেম প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে ওই সময় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা মোকাবিলায় ২০২৯ সালকে সামনে রেখে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন একটি এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্পে গ্যাসের ঘাটতি কমাতে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পৌঁছে দিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০টি ট্রাক পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কনটেইনারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরিতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

এ সময় ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এসব যানবাহনের রাতের চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে অনেক সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখেও পড়তে হয়।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করাকেও সংকট মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।