স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মাস্টার্স পাস করা মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর দাসপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন গণপতি চক্রবর্তী। অবসর নেওয়ার পর তিনি জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের ছোট ছেলে প্রীয়মকে বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যায়। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িটি অস্বাভাবিকভাবে নীরব থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির দরজা-গেটে তালা ঝুলতে দেখে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়।
২৩ আগস্ট (শনিবার) রাতে স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গেট ও দরজার তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। তল্লাশি চালিয়ে চিলেকোঠা, ছাদ ও খাটের ওপর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে শিশু প্রীয়মের মরদেহ মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে বাড়িতে ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রাতেই মামলা করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চারজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স