নিজস্ব প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালক মো. আতাউর রহমান আতা মিয়া (৬০) হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি, লোহার রড ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
নিহত আতাউর রহমান কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার বিকেলে যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কে আতাউর রহমানকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সড়কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আতাউর রহমানের ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুন। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে আতাউর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে একই দিন সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজ্জাক খানের ছেলে রাজিব খান (২৯), মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নকিবুল হাসান রাকিব (২৪) এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার রসুলপুর গ্রামের শামসুদ্দীনের ছেলে কিবরিয়া (৪২) গ্রেপ্তার হন।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার রাজিব খান ও নকিবুল হাসান রাকিব আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, সেটি বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি, লোহার রড ও রশি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই গাজীপুরের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মো. আশরাফুল ইসলাম আসামিদের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে বাবার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স