ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারকে (৪০) হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বাড়ির কেয়ারটেকারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ছুরি, লোহার রড, কাঠের খাটিয়াসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নিহত রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) এবং তার বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) নিহতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রাকিব রায়হান তালুকদার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।
গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। ওই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়।
পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজন ও কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও তাকে না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার সহযোগী জিতুল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলে পুলিশ জানায়।
এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২ আগস্ট ফুলবাড়িয়ার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে রাকিবের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি চাদরে মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহের ১৫টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের তদন্তে পরে রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তাদের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, তিনটি ছুরি, একটি লোহার রড, কাঠের খাটিয়া এবং রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি কাঠের খাটিয়ায় রেখে টুকরো করা হয়েছিল এবং পরে ব্যাগ ও চাদরে মুড়িয়ে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, প্রাথমিকভাবে অর্থের লোভে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হতে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় রাজু মির্জা, সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাকিব রায়হান বিবাহিত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স