আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা শুধু ঘরবাড়ি আর জনপদই ভাসিয়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন। এখন সেখানে নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসছে একের পর এক মরদেহ।
আর হাসপাতাল ও মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে স্বজনদের চোখে একটাই প্রশ্ন নিখোঁজ প্রিয় মানুষটি কি ফিরবে, নাকি ফিরবে তার নিথর দেহ?
গত বুধবার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬২৬ টি মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যার পানির স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে অনেক মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ভেসে গেছে। ফলে শুধু বন্যাকবলিত এলাকায় নয়, নদীর ভাটির বিভিন্ন জেলা থেকেও উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ।
রাসুয়া ও নুয়াকোটের নিখোঁজ বাসিন্দাদের অনেকের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে চিতওয়ান, তানাহুন ও নাওয়ালপারাসিসহ দূরবর্তী এলাকায়। প্রতিটি মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক এই দেহটি কি তাদের হারিয়ে যাওয়া আপনজনের?
মর্গে জায়গা নেই, তবু থামছে না মরদেহের আসা
একদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের অপেক্ষা, অন্যদিকে একের পর এক মরদেহ আসায় হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ চাপ। নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গে জায়গা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
চিতওয়ান হাসপাতালের মূল মর্গে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা যায়। কিন্তু ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেখানে এত বেশি মরদেহ আসছে যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অস্থায়ী মর্গ তৈরির উদ্যোগ নিতে হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ানে ত্রিশূলি ও নারায়ণি নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজনরা। কেউ হাতে নিখোঁজ সন্তানের ছবি, কেউ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন স্বামী বা ভাইয়ের পরিচয়পত্র। হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র আর মর্গের সামনে তাদের অপেক্ষা একবার যদি প্রিয় মানুষটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়।
কেউ হয়তো এখনো বিশ্বাস করছেন, নদীর ভয়াল স্রোত তাকে কেড়ে নিতে পারেনি। কেউ আবার বুকের ভেতর ভয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যদি অপেক্ষার শেষটা হয় এমন কোনো পরিচয়ের সামনে, যা কোনো স্বজনই দেখতে চান না।
নেপালের এই দুর্যোগে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ নয়, প্রতিটি নদীতীর, প্রতিটি হাসপাতাল আর প্রতিটি মর্গ হয়ে উঠেছে স্বজন হারানোর বেদনার সাক্ষী। প্রকৃতির ভয়াল রূপের কাছে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর জন্য অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স