নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাত তখন গভীর। হঠাৎ মার্কেট থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গ্রাস করে নেয় একের পর এক দোকান। জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার মার্কাজ মসজিদসংলগ্ন গুলশান মার্কেটে ঘটে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।
৩০ আগস্ট (রোববার) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ইমন স্টোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তা দ্রুত আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে মুদিখানা, বেডিং, প্লাস্টিক, ফল ও খাবারের দোকানসহ মোট আটটি দোকান এবং সংশ্লিষ্ট মালামাল পুড়ে যায়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল জমজম, ভাই ভাই বেডিং হাউজ ও তুলার দোকান, ইমন স্টোর, জহির বেডিং স্টোর, মুসলিম ভ্যারাইটিজ প্লাস্টিক স্টোর, ইমন স্টোরের গোডাউন, হাসান ফল ভান্ডার এবং হুসাইন দই-চিড়া ঘর।
আগুনের খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।
তবে ব্যবসায়ীদের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রিপন মোদক জানান, দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ইউএনও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স