ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

প্রেমের সম্পর্কের জেরে নারীকে হত্যা, লাশ খালে ফেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরে ডলি আক্তার নামে এক নারীকে হত্যার পর লাশ সুটকেস ও বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিজানুর রহমান মিল্টন, মিশন ইসলাম ও মিশনের মা বানু আক্তার।
পিবিআই জানায়, নিহত ডলি আক্তারের লাশ অজ্ঞাত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে একটি সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যান। পরে সিএনজি অটোরিকশায় করে তারা গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছান। সেখানকার ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তাগুলো খালের পানিতে ফেলে দেন।

এ সময় মিল্টনের হাতে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। তখন মিশন তাকে জানান, ভেতরে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকা ডলি আক্তারের মরদেহ রয়েছে। পরে তারা যার যার বাসায় ফিরে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় লাশ উদ্ধারের কারণে শুরুতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সূত্রের সমন্বয়ে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। একই প্রক্রিয়ায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। অপরাধীরা যত কৌশল অবলম্বনই করুক, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।