স্টাফ রিপোর্টার:
পাবনার সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মামলা হয়নি।
এদিকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে ছয়জন মুখোশধারীকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন, পুষ্পপাড়া বাজারের ইজারাদার আব্দুস সালাম (৫৪) এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৪০)। তাঁরা দুজনই পাবনা সদর উপজেলার ধর্মগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সালাম ওই গ্রামের আরজ আলীর ছেলে এবং রিপন ওমেদ আলী মেম্বারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুষ্পপাড়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম দিক থেকে ছয়জন মুখোশধারী এসে সালাম ও রিপনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলার পর ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা যেদিক থেকে এসেছিল, সেদিক দিয়েই পালিয়ে যায়। পুরো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে তাদের সময় লাগে প্রায় এক মিনিট।
নিহত সালামের ভাই আব্দুল কালামের দাবি, তাঁর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অতীতের একটি হত্যা মামলায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু জানান, রিপন দলীয় কর্মী ছিলেন। সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর পাবনা সফর উপলক্ষে তাঁকে দিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর কাজ করানো হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
আতাইকুলা থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। জানাজা ও দাফন শেষে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে মামলা করার কথা জানিয়েছেন। পুলিশ মামলা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ এবং চরমপন্থিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এমন দুটি সম্ভাব্য কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় একই পুষ্পপাড়া হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। পুরোনো সেই ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে নতুন এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আবারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স