আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি আবার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক শিপিং খাত এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সম্ভাব্য মাইন, যুদ্ধঝুঁকির বিমা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জাহাজ মালিকরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের গতিতে শুরু হয়নি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কম। এদিকে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এখনো দুই প্রান্তে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য মাইন অপসারণ এবং শিপিং কোম্পানি ও বিমা প্রতিষ্ঠানের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।
ডেনমার্কভিত্তিক জিসকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হায়দার আনজুমের মতে, বড় ধরনের কোনো হামলা ছাড়া দীর্ঘ সময় পার হলে তবেই জাহাজ মালিকরা পুরোপুরি আস্থা ফিরে পাবেন। তাঁর ধারণা, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো পানির নিচে মাইন থাকার আশঙ্কা। যদিও যুক্তরাষ্ট্র মাইন অপসারণের কথা বলছে, তবুও শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়। নিরাপদ নৌপথ চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য মাইন অপসারণ সম্পন্ন করতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে যুদ্ধঝুঁকি সংক্রান্ত সামুদ্রিক বিমার খরচও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সংঘাত শুরুর আগে যে বিমা কিস্তি তুলনামূলক কম ছিল, যুদ্ধ চলাকালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কিছুটা কমলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।
আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো সম্ভাব্য ফি বা নিরাপত্তা সমন্বয় চার্জ। ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট সেবা ফি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি নিরাপত্তা, বিমা সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি নতুন করে কোনো সংঘাত না ঘটে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে।
দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক