ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

নেপালে মুহূর্তেই বদলে গেল নদীর চেহারা!! হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক স্রোতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ আগস্ট (বুধবার) সকালে হঠাৎ নেমে আসা এই প্রবল ঢলে নদীতীরবর্তী জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের একটি অংশের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দুই দেশের কর্তৃপক্ষই আশঙ্কা করছে, শেষ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। 

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী ও বেসরকারি সংস্থার হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম স্থানগুলো থেকে মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

রাসুয়ার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় বন্যার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। পানির তোড়ে বসতি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো, যার মধ্যে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকার জানিয়েছে, বন্যায় বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ এলাকার পাকা সড়কও নষ্ট হয়েছে। ফলে দুর্গত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার কিছু পর ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন। নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে দুর্গত এলাকায় দায়িত্ব পালন করা নেপালি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্যেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রাসুওয়াগাধি কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অফিসের কয়েকজন কর্মচারীও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

হড়পা বানের পর বিপদে পড়া পর্যটকদের নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি কয়েকশ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মধ্যে অনেকে গোসাইকুন্ডা ও কৈলাস মানস সরোবর ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

পর্যটকদের সন্ধানে ট্যুরিজম পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হড়পা বানের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে একটি বড় পাথর ও বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে গিয়ে সেখানে পানির চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। পরে সেই বাধা ভেঙে পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট ছবির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নদীর ওপর বড় ধরনের প্রাকৃতিক বাধা তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় এখনো পানি জমে থাকায় নতুন করে পানির ঢল নামার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর পাশাপাশি বন্যার সময়ের কাছাকাছি একটি ভূমিকম্পও রেকর্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের কারণে বরফধসের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. রিজান ভক্ত শ্রেষ্ঠের মতে, হিমবাহ থেকে বড় বরফখণ্ড নদীতে পড়ে পানি আটকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি হঠাৎ বেরিয়ে এলে বড় ঢলের সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে আরও স্যাটেলাইট তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


সূত্র: Reuters,  The Rising Nepal

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।