মোঃ স্বাধীন খান, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রায় পাঁচ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছানি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫০০ জনের লেন্সসহ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনব্যাপী এ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ক্যাম্পটির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
ক্যাম্পে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মধ্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে ছানি রোগীদেরও শনাক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্য থেকে ৫০০ জনের লেন্সসহ ছানি অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হবে।
চিকিৎসা ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি ক্যাম্প ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের মধ্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন।
এ সময় আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর (বাংলাদেশ সেক্টর) ড. আহমেদ তাহের হামিদ আলি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, বগুড়া জেলা বিএনপির নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উল নবী সালামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বগুড়ার ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আফসারুল হাবিব রোজ, আমিনুল হক দেওয়ান সজল, ডা. ইউনুস আলী, আলনুর চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাঈদ, আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ফ্রি ক্যাম্পিং ম্যানেজার মো. ওবায়দুজ্জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন, গাবতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মজনুসহ চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, অর্থের অভাবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারা আরও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বাদ না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মো: স্বাধীন খান (বগুড়া জেলা প্রতিনিধি)