ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

হরমুজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়াল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 31, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত লারাক দ্বীপ, যেখানে শনিবার রাতে মার্কিন বাহিনী দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় ছবির ক্যাপশন: হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত লারাক দ্বীপ, যেখানে শনিবার রাতে মার্কিন বাহিনী দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায়

ছয় মাস ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আবার নতুন মোড় নিল। যুক্তরাষ্ট্র শনিবার রাতে ইরানের হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে হামলা চালানোর পর রবিবার ও সোমবার জুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ আগস্ট রাতে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত ছোট দ্বীপ লারাকে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চারে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই লঞ্চারগুলো থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন নৌ-চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছিল। গত জুলাইয়ের শেষের পর এটি ছিল ইরানের ভূখণ্ডে প্রথম সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য এবং দ্বীপে থাকা বেসামরিক কর্মী হতাহত হয়েছেন। যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে IRGC একে "শহীদ" হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

জর্ডান ও আমিরাতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান প্রতিশোধ নেয়। রবিবার গভীর রাত এবং সোমবার ভোরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, জর্ডানের কিং হুসেইন এবং আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে থাকা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই দুটি ঘাঁটি থেকেই লারাক দ্বীপে হামলার জন্য লজিস্টিক সহায়তা ও উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়েছিল। IRGC-র ভাষায়, এতে "ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি" হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভোরে আকাশসীমা লঙ্ঘন করা আটটি মিসাইল সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে মিসাইলগুলো কোথা থেকে এসেছে তা তারা সরাসরি উল্লেখ করেনি।

একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। ইরানের অভিযোগ, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন হেলিকপ্টার ও সেনা মোতায়েন ছিল যারা লারাক অভিযানে যুক্ত ছিল।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার দুপুরে X হ্যান্ডেলে জানায়, ইরানের দিক থেকে আসা একটি ড্রোন তাদের জলসীমার ওপর শনাক্ত করা হয় এবং বিমান বাহিনী তা মোকাবিলা করেছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল যে তারা আমিরাতে থাকা মার্কিন অবস্থানে আঘাত করেছে।

এছাড়া সোমবার সকালে ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে অবৈধ রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি সুপার ট্যাঙ্কার দুটি নৌ-মাইন এর আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। IRGC-র দাবি, ট্যাঙ্কারটি সম্পূর্ণভাবে থেমে গেছে।

খারগ দ্বীপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ট্রাম্পের ভিডিও

এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয় ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, খারগ দ্বীপকে "গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে"। ভিডিওটি পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা জানায়।

ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সিইও হামিদ বোভার্দ সোমবার Nournews কে বলেন, খারগ দ্বীপে তেল কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। তার ভাষায়, "ট্রাম্পের টুইট হাস্যকর এবং খারগের পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক"। তিনি জানান, ইরানের ৯০% তেল এই দ্বীপ থেকেই রপ্তানি হয় এবং অতীতে বহুবার হামলার পরও কর্মীরা কাজ বন্ধ করেননি। বর্তমানে সেখানে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ও জেটি আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

হামলার খবরে বিশ্ব তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.২৩% বেড়ে ৮৯.১৮ ডলার এবং পরে ২.৯% বেড়ে ৯০.৬১ ডলারে পৌঁছায়। US WTI ক্রুডের দামও ১.১০% বেড়ে ৮৪.৩২ ডলার এবং পরে ৮৫.৬৬ ডলারে উঠে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়, তাই এখানে যে কোনো সামরিক সংঘাত সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে এশিয়ার বাজারে ডিজেলের প্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা Kpler ও Vortexa-র তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়া থেকে আফ্রিকায় ডিজেল রপ্তানি আগস্টে সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো এই মাসে ১৮ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল আফ্রিকায় পাঠাচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর প্রতি সপ্তাহে নতুন করে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। প্রথম ধাপে ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, "আমরা ব্যাংকগুলোকে বলছি, ইরানি অর্থ রাখা এবং শাসনকে সহায়তা করা ঠিক নয়"। এর আগে শুক্রবার মিশরের Banque Misr-এর আমিরাত শাখার ওপর ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডলার ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক অবস্থান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন হামলাকে "সামরিক আগ্রাসন" বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং জর্ডানে হামলাকে "বৈধ আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার" হিসেবে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীরা যে কোনো উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ছয় মাস আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যায় তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন বাহিনীর এক মাস পর আবার সরাসরি হামলা এবং ইরানের জর্ডান ও আমিরাতের মতো তৃতীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা সংঘাতকে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, সামনের কয়েক দিন পশ্চিম এশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।