মো: স্বাধীন খান, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
একজন রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে। ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকল্প চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, এজমা আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বজনরা। একপর্যায়ে কয়েকজন বহিরাগত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার দাবি করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
অপরদিকে নিহত রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্বজনদের দাবি, পরবর্তীতে তাঁদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, একজন এজমা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয় চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিনিয়র ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও হাসপাতালে যায়। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, পুলিশ গিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে চারজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো: স্বাধীন খান (বগুড়া জেলা প্রতিনিধি)