নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় রোকেয়া বেগম (৪৫) নামে এক পথচারী নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ভবনে ঢুকে পড়ে। এতে ভবনটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভেতরে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অক্ষত রয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার যশোর-চুকনগর সড়কের মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোকেয়া বেগম মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে যশোরগামী একটি বাস মধ্যকুল উত্তরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা রোকেয়া বেগমকে চাপা দেয়। বাসের চাকায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের অপর পাশে থাকা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ভবনের সামনের অংশে ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ভবনের সামনের অংশ ভেঙে যায়। তবে দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কেউ আহত হননি।
দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার মানিক ফকির (৪২) আহত হয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সোদ্দিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ডান পায়ে আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক হাফেজ গোলাম মোস্তফা জানান, ফজরের নামাজের পর রোকেয়া বেগম হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বাসটি মাদ্রাসার সামনের অংশে ঢুকে পড়ায় ভবনটির বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা ১০-১২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। পরে আহত হেলপারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স