স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকায় ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে বগুড়ার প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিহত শিক্ষিকার ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের একজনের কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ডিবি।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে রিকশায় করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পাশের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন রনজিনা পারভীন। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
ঘটনার সময় মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ১২ নম্বর গেট অতিক্রম করে খেজুরবাগানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রিকশাটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে পেছন থেকে খোকন রনজিনার হাতে থাকা ব্যাগ টান দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত শিক্ষিকার স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির তেজগাঁও বিভাগও কাজ শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে খোকন ও রাজিবের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।
পরে ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিনার ব্যাগ এবং মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট এলাকা থেকে তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। একইভাবে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, রাজিব মাতুব্বরের কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে ডিবি। ফলে শিক্ষিকা হত্যার তদন্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তে এসেছে।
এর আগে এ ঘটনায় র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ও তার সহযোগী সেড্রিক জুলিয়ানকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাকিব হোসেন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নতুন করে খোকন ও রাজিব গ্রেপ্তারের পর মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার দুজনের ভূমিকার যোগসূত্র কী তা তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
সূত্র: ডিবি ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স