বাগেরহাট সংবাদদাতা :-
বাগেরহাটের মোংলায় বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়িক সিমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযানে নয়টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোংলা উপজেলার চিলা বাজারের দুই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবসায়ীর তিনটি ব্যবসায়িক সিমকে লক্ষ্য করে প্রতারণাটি করা হয়। গত ২৭ জুন ভোর থেকে সকাল সোয়া ৭টার মধ্যে ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সিমগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে ওই তিন সিমের মাধ্যমে থাকা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ছয়টি পৃথক বিকাশ ও নগদ নম্বরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর ১ জুলাই মোংলা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের পর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার দিনই মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে ইয়াছিন সওদাগর ও শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। শামীমের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর ২২ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। পরে র্যাবের সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা নয়জনে পৌঁছেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন,শরণখোলার নলবুনিয়া এলাকার ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া এলাকার রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।
অভিযানে Infinix Note 12 Pro, Orbit Y50, Infinix, Realme C53, Vivo Y52, Infinix Smart 8, Samsung Galaxy A23, Realme C7 ও Tecno Pova Neo2 মডেলের নয়টি স্মার্টফোনসহ দুটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড পরীক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টের নমুনা পাওয়া গেছে। এসব আলামত ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে বলে পুলিশের দাবি।
তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা বাকি অর্থ উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স