স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মাদক পাচারের অভিনব কৌশলের সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষভাবে তৈরি কাঠের ডুবন্ত ক্যারিয়ার উদ্ধারের পাশাপাশি পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এসব তথ্য জানায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ার মনিরের ঘের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল। এ সময় একটি মাচাংঘরের পাশে সন্দেহজনক কয়েকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁদের থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামের দুজনকে আটক করা হয়।
পরে আশপাশের এলাকা ও ঘেরে থাকা ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক মোটর জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা আনার জন্য কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ারটি ব্যবহার করা হতো। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে খালপথের বিভিন্ন বাঁক অতিক্রম করিয়ে ক্যারিয়ারটি নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। বিজিবির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, এতে একসঙ্গে আনুমানিক ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব।
এদিকে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রকি আহমেদ (২৬) নামের একজনকে আটক করে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পৃথক এসব অভিযানে সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত তাঁদের ব্যাটালিয়ন প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। একই সময়ে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাচারকারীরা নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করলেও সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স