আপন আর্য্য, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ২ হাজার ৬০১ পিস ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।
১৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় পথিক কনফেকশনারির সামনে এবং কান্দাপাড়া রবিদাসপাড়া ও এসএস পৌর আইডিয়াল স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। বাকি চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত মামলার আসামি শাহীন মিয়া (৩৮) ও মো. মিন্টু (৩১)। তাঁদের দুজনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। তাঁদের কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন মো. নুরুল ইসলাম (৫৫), আব্দুল করিম (৫২), সুলতান মাহমুদ (৩৬) ও মহাদেব ঘোষ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা, এক পিস ইয়াবা, শূন্য দশমিক ৫০ গ্রাম হেরোইন এবং ২৫০ মিলিলিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবির বুলবুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
নিয়মিত মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন উপপরিদর্শক তপু খান।
এদিকে, উপপরিদর্শক তপু খানের দাখিল করা প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিব হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত নুরুল ইসলামকে ১৫ দিন, আব্দুল করিমকে ২০ দিন এবং সুলতান মাহমুদ ও মহাদেব ঘোষকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স