টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিপ্লব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ শিশুটির পরিবারের। এ ঘটনায় শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত বিপ্লব শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করে বাধা দিলে ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করা হয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে এক রিকশাচালক তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শিশুটির মা জানান, তিনি শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার একটি পার্লারে কাজ করেন। অভিযুক্ত বিপ্লব ওই পার্লারে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটি মায়ের কাছ থেকে নিচে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিপ্লব শিশুটির মায়ের কাছে তিনটি চিপস নিয়ে যান। মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা ধরনের টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটির নাক ফেটে গেছে এবং ঠোঁটে সেলাই দিতে হয়েছে। হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা করেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই শিশুটির চিকিৎসা এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিশুটির উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। প্রয়োজনে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলার কথা জানান। পাশাপাশি অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া আরও এগিয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও মামলার পরবর্তী অগ্রগতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স