১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে কেউ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার সমালোচকদের মতে এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা ইরানের জন্য এই সমঝোতা স্বস্তির বার্তা হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এই চুক্তিকে তাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য নেতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের দাবি, এই সমঝোতার ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং তেহরান রাজনৈতিকভাবে নতুন সুবিধা অর্জন করতে পারে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এসব দেশ নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে। ফলে অনেক দেশ সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
তবে সব বিশেষজ্ঞ একই মত পোষণ করছেন না। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ব্যর্থ সামরিক চাপের পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত ও কম ঝুঁকিপূর্ণ পথ।
এদিকে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার একটি হতে পারে ইসরায়েলের অবস্থান। যদিও শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবুও বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই চুক্তির বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
মনিরুজ্জামান মতিন