জাপানের ওকিনাওয়ায় টাইফুন ডলফিনের আঘাত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ৫০ হাজারের বেশি ভবনে
টোকিও, ৮ আগস্ট ২০২৬: শক্তিশালী টাইফুন Dolphin-এর আঘাতে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ঝড়টি Okinawa অঞ্চলে আঘাত হানার পর প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং Okinawa ও Kagoshima অঞ্চলের ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এর আগের দিন Japan Meteorological Agency (JMA) শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি, উঁচু ঢেউ এবং বন্যার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। একই সঙ্গে ঝড়ের কারণে দেশটির যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
প্রবল বাতাসে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল
Typhoon Dolphin-এর প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৬২ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাস বয়ে যায়। ঝড়ের দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এত শক্তিশালী বাতাসের কারণে Okinawa-র বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, Okinawa-তে ১২ হাজারের বেশি ভবন এবং Kagoshima-তে প্রায় ৩৯ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুই অঞ্চলে মোট ৫০ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ছয়জন আহত
ঝড়ের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। Okinawa Prefecture-এর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে Kagoshima Prefecture-এ আরও একজন আহত হয়েছেন। প্রবল বাতাস ও ঝড়ের মধ্যে পড়ে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, Typhoon Dolphin-এর আঘাতে জাপানে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
বিমান ও পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব
ঝড়ের কারণে জাপানের বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। খারাপ আবহাওয়া ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ করে Okinawa ও দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের বিমান যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
দেশটির বড় দুটি বিমান সংস্থা All Nippon Airways (ANA) এবং Japan Airlines (JAL)-এর বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে অনেক যাত্রী তাদের নির্ধারিত যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগেই ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গিয়েছিল। একই সময়ে Toyota ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে Kyushu অঞ্চলের কয়েকটি কারখানায় কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।
চীনের দিকেও এগোচ্ছে ঝড়
জাপানের Okinawa অতিক্রম করার পর Typhoon Dolphin এখন পূর্ব চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি Zhoushan ও Fuding-এর মধ্যবর্তী চীনের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় রবিবার রাত থেকে সোমবারের প্রথম দিকে আঘাত হানতে পারে।
ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ সামনে রেখে চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সমুদ্রপথে ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বন্দর বন্ধ করা হয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি মাছ ধরার নৌযানগুলোকে নিরাপদ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান ও রেল যোগাযোগেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
Typhoon Dolphin-এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো ভারী বৃষ্টি। চীনের পূর্বাঞ্চলে ঝড়টি পৌঁছানোর সময় কোনো কোনো এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের অতিবৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় বাড়তে পারে ভূমিধসের ঝুঁকিও। তাই স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের রাজধানী Beijing-এও ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বন্যা, কাদা ধস ও ভূমিধসের সম্ভাবনা নিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
Taiwan-এও বাতিল হয়েছে ফ্লাইট
Typhoon Dolphin-এর প্রভাব পড়েছে Taiwan-এও। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে ৭৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে Taiwan-এ ব্যাপকভাবে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার গতিপথ ও ঝড়ের শক্তি পর্যবেক্ষণ করছে।
সতর্ক অবস্থানে জাপান
Typhoon Dolphin-এর আঘাতের পর এখন জাপানের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করা। পাশাপাশি নতুন করে কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন নতুন কোনো দুর্যোগ সৃষ্টি না করলেও ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস কিছু এলাকায় আরও সময় ধরে থাকতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে Japan-এ Typhoon Dolphin-এর প্রাথমিক প্রভাব সামাল দিতে উদ্ধার ও জরুরি পরিষেবাগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তবে ঝড়টি এখন China-র দিকে অগ্রসর হওয়ায় পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা পূর্ব এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে China-র পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক