ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত ২৫০ ছাড়াল, ধ্বংসস্তূপে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 12, 2026 ইং
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০+ ছবির ক্যাপশন: কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০+
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। সোমবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম কলম্বিয়ার San José del Palmar এলাকার কাছে। ভূমিকম্পটি ১০ আগস্ট ২০২৬ স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানে। USGS-এর হিসাবে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পনে কলম্বিয়ার পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন, হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Pereira, Cali, Manizales ও Quibdó-সহ বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং জরুরি সেবার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ
উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের শনাক্ত করা। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি অনেক জায়গায় নীরবতা বজায় রেখে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের শব্দ শোনার চেষ্টা করছেন। কারণ ভারী যন্ত্র চালালে জীবিতদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও উদ্ধারকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। Pereira এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর Daniela Largo নামে এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়।

আরও কয়েকটি সফল উদ্ধার অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করে বের করে আনাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।


আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

ভূমিকম্পে আহত মানুষের সংখ্যাও ব্যাপক। সর্বশেষ AP প্রতিবেদনে ২,৫৯৫ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পে কিছু হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে প্রায় ১৯৫ জন নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরও সময় লাগতে পারে।

জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মেক্সিকো ও এল সালভাদরও মানবিক সহায়তা ও উদ্ধারকর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি খাবার, পানি, চিকিৎসা সামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো বিশেষভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।


কেন এত প্রাণহানি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রার পাশাপাশি ভবনের নির্মাণমান, স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, জনবসতির ঘনত্ব এবং ভবন ধসের ধরন প্রাণহানির মাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। Reuters-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে; তবে দুর্বল অবকাঠামো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা প্রাণহানি বাড়িয়েছে।

কলম্বিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয়। এবারের ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পকে দেশটির চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে

এখনো শেষ হয়নি উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পের তিন দিন পরও উদ্ধার অভিযান থামেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকার সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধারকারীরা সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি ভবন পরীক্ষা করছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।