টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ এবং শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন,সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিয়াটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক এবং ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাঁটতে বের হন রফিকুল ইসলাম ফারুক। আকুরটাকুর পাড়ার বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।
ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে মামলার বাদী ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে সিআইডি পুনরায় তদন্ত শুরু করে।
সিআইডির তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতে অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সুজন ও সানোয়ার ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স