ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস: সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসায় প্রতিরোধ সম্ভব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 28, 2026 ইং
প্রতিকী ছবি ছবির ক্যাপশন: প্রতিকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:

জলাতঙ্ক দূরীকরণ, সবাই মিলে করণীয় এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা, প্রচার-প্রচারণাসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। র‌্যাবডোভাইরাস পরিবারের এ ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালা থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বাদুড়, বেজিসহ বিভিন্ন উষ্ণ রক্তের প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে জলাতঙ্কের সংক্রমণ রয়েছে। প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশই এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে যথাযথ চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে দেরি না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের চিকিৎসা নিতে সেখানে আসছেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কুকুর বা অন্য কোনো সন্দেহজনক প্রাণী কামড়ালে কিংবা আঁচড় দিলে দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিতে হয়।

বিশেষ করে মুখ, মাথা ও ঘাড়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে কামড় হলে ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা না করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ও তাঁর সহযোগীরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা প্রয়োগে সফলতা অর্জন করেন। জোসেফ মেস্টার নামে নয় বছর বয়সী এক শিশুর ওপর ওই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এ টিকা বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লুই পাস্তুরের অবদানকে স্মরণ এবং জলাতঙ্ক সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালন করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে

আমি কে?

‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।