নিজস্ব প্রতিনিধি:
সংসারের অভাব দূর করার প্রত্যাশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির যুবক শাহিন শেখ। দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে একটি রড কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের ঋণ পরিশোধ করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখলেও কর্মস্থলের ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই স্বপ্নের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ইরাক থেকে শাহিনের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। এরপর থেকেই বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাড়ী বাগমারা এলাকায় তাঁর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
শাহিন ওই এলাকার সদর আলী শেখের বড় ছেলে। স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ধার-দেনা করে প্রায় দুই বছর আগে তাকে ইরাকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে একটি রড কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার একজন প্রবাসীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শাহিনের কর্মস্থলে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে শাহিনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তারা খবর পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় শাহিনের মরদেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যে জানা যায়, মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে পলিথিনের সাতটি প্যাকেটে রাখা হয়েছে।
শাহিনের ছোট ভাই জানান, ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য পরিবারকে বড় অঙ্কের টাকা ধার করতে হয়েছিল। সেই দেনা এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর আগেই শাহিনের মৃত্যু তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে।
বড় বোন সাজেদা বেগম জানান, তাদের মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন। শাহিনকে বিদেশে পাঠানোর পেছনে পরিবারের আশা ছিল, তিনি উপার্জন করে সংসারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করবেন। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর সেই প্রত্যাশাকে মুহূর্তেই ভেঙে দিয়েছে।
মায়ের সঙ্গে মৃত্যুর আগের রাতেও শাহিনের কথা হয়েছিল। সর্ণা বেগম জানান, ছেলে রাতে পরিবারের সবার খোঁজ নিয়েছিলেন। সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর সকালে আসে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ।
শাহিনের মৃত্যুতে পরিবারটি যেমন আপনজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছে, তেমনি তাঁর নিজ এলাকা দক্ষিণ বাড়ী বাগমারাতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা এখন দ্রুত শাহিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স