ঢাকা | বঙ্গাব্দ
🔴 প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে
📰 দেশ বাংলা টিভি নিউজে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে • অভিজ্ঞ ও আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার আহ্বান • 📞 যোগাযোগ: 01731-038330 • সীমিত সময়ের জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে • আজই আবেদন করুন
📝 আবেদন করুন

গোপালপুরের নিখোঁজ মেধাবী ছাত্রের মরদেহ নীলফামারীতে উদ্ধার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 7, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য গিয়ে নিখোঁজ হওয়া টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রাকিবুল হোসেন জয় (১৮)-এর মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় তিন সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জয় গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ+ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন জয়। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি জয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলেকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।

ছেলের জীবন রক্ষার আশায় কৃষক বাবা বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠানো হয়। পরিবার টাকা দেওয়ার পরও জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানায় পরিবার।
জয় নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাকিব ও মামুনের মধ্যে কিছুদিন আগে পরিচয় হয়েছিল। পরে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই জয়কে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে মামুন সেটি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে একটি বাড়ির মাটির নিচে মরদেহ পুঁতে রেখে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে মুক্তিপণের জন্য জয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল মঙ্গলবার ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে যায়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় জয়ের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

জয়ের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে মুক্তিপণের টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও ছেলেকে জীবিত ফেরত পাননি তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

জয়ের মা জোহুরা বেগমও ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে জয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর গোপালপুরের দাদীর আটা গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। মেধাবী এই তরুণের এমন পরিণতিতে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে

আমি কে?

‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।