ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

বাপ্পা মজুমদারের গানে মুগ্ধ শ্রোতারা, গাইল পুরো মিলনায়তন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2026 ইং
বাপ্পা মজুমদারের মুনলাইট মেলোডিজ কনসার্ট ২০২৬ ছবির ক্যাপশন: বাপ্পা মজুমদারের মুনলাইট মেলোডিজ কনসার্ট ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক :

বাংলা গানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্টে সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তৈরি করেছে বিশেষ আবহ। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ শীর্ষক এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পীর সঙ্গে দর্শকদের কণ্ঠ মেলানো। পরিচিত গানের সুরে পুরো মিলনায়তন যেন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল গানের আসরে।

প্রথম আলোর ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি শেষ হয় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে। প্রায় পৌনে চার ঘণ্টার এই পরিবেশনায় বাপ্পা মজুমদার ৩০টি গানের পরিকল্পিত তালিকা থেকে ২৭টি গান পরিবেশন করেন।

পরিচিত গানে দর্শকদের কণ্ঠ

‘মুনলাইট মেলোডিজ’ কনসার্টের শুরুতেই বাপ্পা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘ধুলো পড়া চিঠি’। এরপর একে একে শোনান ‘ভাঙা-গড়া’, ‘চাঁদের শহরে’, ‘আকুতি’, ‘ফিরে এসো’, ‘ফিরব না আজ বাড়ি’ ও ‘চোখের ভেতর স্বপ্ন থাকে’-এর মতো পরিচিত গান।

গানগুলোর সঙ্গে দর্শকদের কণ্ঠ মিলে যাওয়ায় পুরো পরিবেশনায় তৈরি হয় আন্তরিক আবহ। কেউ গুনগুন করে, কেউ আবার গানের পরিচিত অংশগুলো শিল্পীর সঙ্গে গেয়ে ওঠেন। এতে মঞ্চ ও দর্শকসারির মধ্যে দূরত্ব কমে আসে।

কনসার্টের পরবর্তী অংশেও ছিল গানের বৈচিত্র্য। রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি বাপ্পা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘চোখেরই জলে’, ‘আমায় প্রশ্ন করে’, ‘জানালার গ্লাস’, ‘বৃষ্টি পড়ে’, ‘পরী’ ও ‘তোমাকেই বলে দেব’-এর মতো গান। প্রেম, বিরহ ও আবেগঘন অনুভূতির গানগুলো শ্রোতাদের পরিচিত সংগীতজগতকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

পিংক ফ্লয়েডের গানেও বাড়তি আকর্ষণ

নিজের গানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রকসংগীতের প্রতিও আগ্রহের পরিচয় দেন বাপ্পা মজুমদার। অনুষ্ঠানের একটি পর্বে তিনি বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের ‘শাইন অন ইউ ক্রেজি ডায়মন্ড’, ‘হে ইউ’ ও ‘উইশ ইউ ওয়্যার হিয়ার’ পরিবেশন করেন।

বাংলা গান, রবীন্দ্রসংগীত এবং আন্তর্জাতিক রকসংগীতের এই সমন্বয় কনসার্টে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সংগীতের বিভিন্ন ধারায় শিল্পীর আগ্রহ ও পরিবেশনার বৈচিত্র্য উপভোগ করার সুযোগ পান উপস্থিত দর্শকেরা।

মঞ্চের শব্দব্যবস্থা, আলোকসজ্জা এবং যন্ত্রসংগীতের সমন্বয়ও পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যাকিং ভোকাল ও যন্ত্রশিল্পীদের সহযোগিতায় পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। শেষ গান ‘বাজি’ পরিবেশনের আগে বাপ্পা মজুমদার সহযোগী শিল্পীদের মঞ্চে ডেকে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিভিন্ন বয়সের শ্রোতার উপস্থিতি

কনসার্টের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দর্শকদের বয়সের বৈচিত্র্য। তরুণ শ্রোতা থেকে শুরু করে প্রবীণ সংগীতপ্রেমী—বিভিন্ন বয়সের মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ থেকে বোঝা যায়, বাপ্পা মজুমদারের গানের সঙ্গে একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার সম্পর্ক রয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা মাসুমা রহমান নাবিলা, সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল এবং পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলসহ বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কনসার্ট শেষে বাপ্পা মজুমদার জানান, মানুষ গান শুনতে চায় এবং শ্রোতাদের জন্য সুন্দর আয়োজন করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে সংগীতের সঙ্গে শ্রোতার সম্পর্ক এবং ভালো পরিবেশনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।

শ্রোতার ভালোবাসায় বিশেষ সন্ধ্যা

সময়ের সঙ্গে গান শোনার মাধ্যম বদলেছে। ক্যাসেট ও সিডির যুগ পেরিয়ে এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজেই গান শোনা যায়। কিন্তু প্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি শোনার অভিজ্ঞতা যে এখনো শ্রোতাদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে, ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ কনসার্টের পরিবেশনা তারই একটি উদাহরণ।

বাপ্পা মজুমদারের এই আয়োজন শুধু একক সংগীত পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; দর্শকদের অংশগ্রহণও সন্ধ্যাটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিচিত গানের সঙ্গে একযোগে কণ্ঠ মেলানোর মুহূর্তগুলো অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি হয়ে থাকবে উপস্থিত সংগীতপ্রেমীদের কাছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ১০ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ডেইলি স্টার ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে

আমি কে?

‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।