ঢাকা | বঙ্গাব্দ
🔴 প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে
📰 দেশ বাংলা টিভি নিউজে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে • অভিজ্ঞ ও আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার আহ্বান • 📞 যোগাযোগ: 01731-038330 • সীমিত সময়ের জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে • আজই আবেদন করুন
📝 আবেদন করুন

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর, মির্জাপুরে নিখোঁজ মেয়েকে নিয়ে আতঙ্কে পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা এক নারীকে নিজেদের মেয়ে সুইটি আক্তার বলে দাবি করছেন স্বজনরা। তবে ওই ঘটনায় সুইটির সম্পৃক্ততা কিংবা তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে মা জহুরা বেগম ও বাবা ফজলু মিয়ার। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা। অন্যদিকে মেয়ের ফেরার আশায় দিন গুনছেন বাবা। তাঁদের একটাই চাওয়া, মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, তা দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুইটি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশ্বাসে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে আটকের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুইটি নিজেই তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান।

সুইটি পরিবারকে বলেছিলেন, মারামারির একটি মামলায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরে সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক বান্ধবী পরিবারের সদস্যদের জানান, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সুইটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন স্বজনরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।

সুইটির বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন সুইটি আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ফজলু মিয়া বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও খবর দেখে আমরা খুব ভয় পাচ্ছি। মেয়েটা বেঁচে আছে কি না, সেটাও জানি না।”

মা জহুরা বেগম মেয়ের সন্ধান চেয়ে বলেন, “আমার মেয়ে যদি বেঁচে থাকে, তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আর যদি কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত সত্যিটা আমাদের জানান। মেয়ের কী হয়েছে, সেই চিন্তায় আমরা ঘুমাতে পারছি না।”

পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সত্যতা যাচাই করে সুইটির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকলে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাজা হয়ে থাকলে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটি আক্তার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে খোঁজ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের সত্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে সুইটির পরিবার। মেয়ের জীবিত থাকা, আটকের অবস্থা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুসন্ধান ও সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে

আমি কে?

‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।