আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রিয়াদে একটি ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি স্থাপনায় বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেল শোধনাগারে হামলার দাবি, নিশ্চিত নয় ক্ষয়ক্ষতি
হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর এবং পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, শোধনাগারে হামলার ফলে আগুনের সৃষ্টি হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানালেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাতের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। Reuters-এর প্রতিবেদনে রাস তানুরা এলাকায় আগুনের খবর উল্লেখ করা হয়েছে; আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং তেল লোডিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কেন বাড়ছে সৌদি আরব ও হুতিদের উত্তেজনা?
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে, অন্যদিকে হুতিরা দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী কৌশলগত এলাকায় হুতিদের অগ্রসর হওয়া এবং সৌদি সমর্থিত বাহিনীর পাল্টা অভিযান সংঘাতকে আরও জটিল করেছে। এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। ফলে দেশটির তেল স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার আশঙ্কা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় তেল সরবরাহ কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। Reuters ও Al Jazeera-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেছেন। আলোচনার লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরছে।
পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি, রাস তানুরা তেল স্থাপনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং সৌদি আরবের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA), Reuters, Associated Press (AP) ও Al Jazeera।
দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক