ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ'র জন্মদিন পালন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 ইং
প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ'র জন্মদিন পালন ছবির ক্যাপশন: প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ'র জন্মদিন পালন
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : 

উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর ১৩২ তম জন্মদিন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পালিত হয়।
‎তিনি ১৮৯৪ সালের ০১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বিরামদি (শাহবাজনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
‎১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও এমএ পাশ করেন এবং ১৯২৩ সালে আইনশাস্ত্রে বিএল ডিগ্রী নেন। করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খাঁন পন্নী( চাঁন মিয়া) সাহেবের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও ইবরাহীম খাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২৬ সালে করটিয়া সাদত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসাবে একটানা ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
‎যা তৎকালীন সময়ে বাংলার আলীগড় হিসাবে পরিচিতি পায়।
‎দেশ বিভাগের পর সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ১৯৪৭ সাল হতে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ও ১৯৪৮ সালে ভূঞাপুর কলেজ (বর্তমানে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, প্রাদেশিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি( ১৯৪৭-১৯৭১), প্রাদেশিক বঙ্গীয় আইন সভায়, পাকিস্তান গণপরিষদে ( ১৯৫৩) এবং ১৯৬২ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও অন্যতম পরিচালক ছিলেন। 
‎১৯৪৮ সালে ঢাকায় টাঙ্গাইল মাহফিল (টাংগাইল জেলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বালক বিদ্যালয়, ভূঞাপুর বালিকা বিদ্যালয়, ভূঞাপুর আলিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা, করটিয়া জুনিয়র গার্লস মাদ্রাসা, ঢাকার ধানমন্ডিতে কাকলি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সূর্যতরুন ক্লাবের উপদেষ্টা সহ অসংখ্য শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। 
‎১৯৭৭ সনে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে’একুশে পদক’ প্রদান করে। ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমী কতৃর্ক জাতীয় সংবর্ধনা, ১৯৭৭ সালে কায়কোবাদ সাহিত্য মজলিশ হতে গণ সংবর্ধনা, ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৪৪ সালে পূর্ববঙ্গ সাহিত্য সংসদ কতৃর্ক বিশেষ সম্বর্ধনা এবং ২০১৫ সালে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসে’ জাতীয় উদযাপন কমিটি কতৃর্ক মরণোত্তর ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
‎১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকারী খেতাব’ তমঘায়ে কায়েদে আজম’ ও ‘সিতারা-ই- ইমতিয়াজ’ উপাধি পত্রিকায় বিবৃতির মাধ্যমে বর্জন করেন। ১৯৩৮ সালে ইবরাহীম খাঁ খান বাহাদুর উপাধি পান, পরাধীন দেশে এই খেতাব তিনি গ্রহন করেননি এবং ১৯৪৩ সালে তা বর্জন করেন। 
‎প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে, বাতায়ন, ইস্তান্বুল যাত্রীর পত্র, মানুষ, পাখির বিদায়, রাসূলের দেশে (বর্তমানে বাংলাদেশে স্কুলপাঠ্য), কাফেলা, নসর পেয়াদা, বৌ বেগম, লিপি সংলাপ, কামাল পাশা, আনোয়ার পাশা, ঋণ পরিশোধ, আলু বোখারা, গল্পে ফজলুল হক,ইসলাম সোপান, ইসলামের মর্মকথা, খালেদার সমর স্মৃতি, শাহনামা,গল্প দাদুর আসর, ছোটদের মিলাদুন্নবী,A peep into Rebel Poet, To my students, Anecdotes from Islam, Gleanings in golden fields. এরমধ্যে Anecdotes from Islam ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল পাঠ‍্য এবং মালায়ালাম ও ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 
‎আজ তাঁর জন্মস্থান টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ‘ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ, ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ পাঠাগার, ইবরাহীম খাঁর আলোকিত ভূঞাপুর, ইবরাহীম খাঁ ফাউন্ডেশন, ইবরাহীম খাঁ স্মৃতি পর্ষদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা, অনুষ্ঠিত । 
‎এছাড়া করটিয়া সাদত কলেজের একশত বছর পূর্তি উপলক্ষে “পূর্তি সিরিজ আলোচনা” অনুষ্ঠিত হয় এবং টাঙ্গাইল, ভূঞাপুর, করটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় ।
‎ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৪.০০ টায় ধানমন্ডিস্থ কাকলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে ।
‎জ্ঞান তাপস প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।