ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

মায়ের মৃত্যুর এক মাস না পেরোতেই বাবাকেও হারাল দুই সন্তান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 3, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
দেশ বাংলা টিভি নিউজ ডেক্স :-

মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাবাকেও হারাল দুই শিশু। শরীয়তপুরে চলন্ত বাস থামাতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় রতন পোদ্দার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্সনায়েক মুন্সি আ. রউফ স্টেডিয়ামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গৌরঙ্গ পোদ্দারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেল থেকে রতন স্টেডিয়ামের সামনে সড়কে দাঁড়িয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে হাতের ইশারায় থামানোর চেষ্টা করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে শরীয়তপুর আন্তঃজেলা বাসমালিক সমিতির একটি মিনিবাস ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রতনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করে বাস ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

এক মাসের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই নেই
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রতন পোদ্দারের স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রতন। এরপর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানান স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

রতন দম্পতির তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তান বাবার সঙ্গেই থাকত। মায়ের মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বাবাকেও হারিয়ে তারা এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছোট দুই সন্তানের বয়স ১৩ ও ৮ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী মো. শহিদুল ইসলাম ঢালী বলেন, প্রায় এক মাস আগে রতনের স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকেই রতন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর ছোট দুই সন্তানের দেখাশোনার মতো কেউ থাকল না। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও শিশু দুটির দায়িত্ব নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

শরীয়তপুর আন্তঃজেলা বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, বাসের ধাক্কায় একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তাকে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তবে পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তারা মর্মাহত এবং নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।