স্টাফ রিপোর্টার:-
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন তার স্ত্রী। পরে একই স্থানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮২)। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী নিত্যবালা স্বামীর মরদেহের পাশে দীর্ঘ সময় কান্নাকাটি করেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা রাতভর বাড়িতে অবস্থান করলেও মঙ্গলবার ভোরে নিত্যবালা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
পরে বাড়ির পাশের রেললাইনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিত্যবালার মৃত্যু হয়।
নিত্যবালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার রাতে বাবার মৃত্যুর পর মা সারারাত পাশে বসে ছিলেন। সকালে পরিবারের লোকজনের অগোচরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে মায়ের মরদেহ পাওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, সকালে স্বজনরা রেললাইনের দিকে যাওয়ার সময় মরদেহটি দেখতে পান। পরে সেটি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। একই দিনে বাবা ও মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালা তার কাকা-কাকি। ছোটবেলা থেকেই তিনি তাদের দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা দেখেছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
বাড়ির পাশে নিজেদের ফসলি জমিতে তৈরি করা শ্মশানে পাশাপাশি দুটি চিতায় হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স