কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা দুর্গম চরাঞ্চলে মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোলাম মস্তফা টেঙ্গর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন চড়ুইকুড়ি (মরার চর) এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মস্তফা টেঙ্গর ওই এলাকার মৃত দৈব মণ্ডলের ছেলে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারত থেকে আসা মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আজাহার ও পটল মণ্ডলের পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত দুই-তিন দিন ধরে বিরোধটি আরও তীব্র হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পটল মণ্ডলের ছোট ভাই গোলাম মস্তফা টেঙ্গর পেটে সড়কির আঘাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, চড়ইকুড়ি গ্রামের আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে টেঙ্গর নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে আসা মাদক ও পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত বলে তিনি জানান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সীমান্তের দুর্গম চরাঞ্চলে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এলাকাটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে পুলিশের পৌঁছাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের আটক করতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স