ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

নাটোরে দুই শিশুর বিরোধের জেরে ৮ বছরের শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দম্পতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 26, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
 নাটোরে দুই শিশুর মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে আট বছর বয়সী বায়েজিদ বিন মাহমুদের ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত বায়েজিদকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল শাকিল নাটোরে কর্মরত এবং স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। একই বাড়ির নিচতলায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলন পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বায়েজিদ তার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শাকিলের মেয়ের সঙ্গে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে শাকিল বায়েজিদকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কান্না করতে করতে বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের কাছে সে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে হাসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
পরে শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল তার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।
এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। তাদের দাবি, বাসার মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া গেছে।

বায়েজিদের বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দুই শিশুর মধ্যে চলাফেরা ছিল। পিকনিকের সময় তাদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও বিষয়টি গুরুতর ছিল না। তার অভিযোগ, পরে ছেলেকে বাসায় নিয়ে গিয়ে আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাহবুর রহমান জানান, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, দুই শিশুর বিরোধের জেরে বায়েজিদের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বায়েজিদের বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শাকিল ও নাছরিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কনস্টেবল শাকিল তার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বিরুদ্ধে করা ওই অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে

আমি কে?

‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।